কম্পিউটার বাস কি? এর প্রকার, কার্যাবলী

কম্পিউটার বাস কি

কম্পিউটার বাস (Computer Bus) হলো সিস্টেমের মাধ্যমে কম্পিউটারের বিভিন্ন সাংগঠনিক অংশগুলোর মধ্যে ডাটা ও তথ্যের আদান-প্রদান এবং বিনিময় ঘটানো। এটি হচ্ছে এমন এক গুচ্ছ তার, যার মধ্যে দিয়ে ডিজিটাল সংকেত (১ বা ০) চলাচল করতে পারে।

বাস হল একটি সাধারণ পথ যার মাধ্যমে তথ্য এক কম্পিউটার থেকে অন্য কম্পিউটারে প্রবাহিত হয়। এই পথটি মূলত যোগাযোগের উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয় এবং এটি দুই বা ততোধিক কম্পিউটার উপাদানের মধ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়।

বাস একটি সাবসিস্টেম যা কম্পিউটারের উপাদানগুলোকে সংযুক্ত করতে এবং তাদের মধ্যে ডেটা স্থানান্তর করতে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণস্বরূপ, একটি অভ্যন্তরীণ বাস কম্পিউটারের অভ্যন্তরীণগুলোকে মাদারবোর্ডের সাথে সংযুক্ত করে।


কম্পিউটার বাস কি? এর প্রকার, কার্যাবলী, ‍azhar bd academy
Image source: wikipedia.com

একটি বাস সমান্তরাল বা সিরিয়াল হতে পারে। সমান্তরাল বাস একাধিক তারের মধ্যে ডেটা প্রেরণ করে। সিরিয়াল বাসগুলো বিট-সিরিয়াল বিন্যাসে ডেটা প্রেরণ করে। উদাহরণস্বরূপ, একটি বাস একটি CPU (সেন্ট্রাল প্রসেসিং ইউনিট) এবং সিস্টেম মেমরির মধ্যে মাদারবোর্ডের মাধ্যমে ডেটা বহন করে।

বাস প্রশস্ততা (Bus width): বাসের প্রশস্ততা বলতে বাসের ভিতর একই সময় কতগুলো বিট চলাচল করতে পারে তা বোঝানো হয়। বাসের প্রশস্ততা যত বেশি হবে তত বেশি একসাথে চলাচল করতে পারবে। যেমন: ১৬ বিট ডাটা বলতে বোঝায় বাসের ভেতর দিয়ে ১৬টি বিট একসাথে চলাচল করতে পারে।

বাসের গতি (Buss speed): বাসের গতি মাপা হয় মেগাহার্টজে। যে বাসের গতি বেশি সে বাস দিয়ে তত দ্রুত ডাটা চলাচল করতে পারে। বাসের গতি সাধারণত ৪ মেগাহার্টজ থেকে ৪০০ মেগাহার্টজ পর্যন্ত হতে পারে।

কম্পিউটার বাস এর প্রকারভেদ

কম্পিউটার বাস প্রধানত ২ প্রকার যেমন সিস্টেম বাস এবং এক্সপ্যানশন বাস।


সিস্টেম বাস

যে বাস সিপিইউ বা মাইক্রোপ্রসেসরের সাথে অন্যান্য অংশ কে সরাসরি সংযুক্ত করে তাকে সিস্টেম বাস বলে। এই বাসের সাহায্যে সিপিইউ মেমোরী এবং কম্পিউটারের চিপসেটের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করে। সিস্টেম বাসকে ইন্টারনাল বাসও বলা হয়। কম্পিউটার বাস বলতে সাধারণত সিস্টেম বাসকে বুঝানো হয়।

কম্পিউটার সিস্টেম বাস হল সেই পদ্ধতি যার মাধ্যমে একটি কম্পিউটারের সমস্ত অভ্যন্তরীণ অংশগুলোর মধ্যে ডেটা যোগাযোগ করা হয়। এটি প্রসেসরকে RAM, হার্ড ড্রাইভে, ভিডিও প্রসেসর এবং কম্পিউটারের অন্যান্য সকল উপাদানের সাথে সংযুক্ত করে। সিস্টেম বাস আবার ৩ প্রকার। যেমন,

১) ডেটা বাস (Data Bus): ডেটা বাস একটি কম্পিউটার বা ডিভাইসের মধ্যে এমন একটি সিস্টেম যা সংযোগকারী বা তারের সেট নিয়ে গঠিত হয়, এবং যা ডেটা পরিবহনের ব্যবস্থা করে। মাইক্রোপ্রসেসর, হার্ডডিস্ক, র‍্যাম, ইনপুট/আউটপুট পোর্ট ইত্যাদির মধ্যে ডেটা আদান-প্রদানে ব্যবহৃত বাস-ই হল ডেটা বাস।


২) অ্যাড্রেস বাস (Address Bus): এটি একটি একমুখী পথ যা তথ্যকে শুধুমাত্র এক দিকে যেতে দেয় এবং মেমরিতে ডেটা কোথায় সংরক্ষণ করা হয় সে সম্পর্কে তথ্য বহন করে। অ্যাড্রেস বাসের সাহায্যে সিপিইউ মেমোরির কোনো বিশেষ ঠিকানার সাথে সংযোগ স্থাপন করে।

৩) কন্ট্রোল বাস (Control Bus): কন্ট্রোল বাসের মাধ্যমে সিপিইউ থেকে নিয়ন্ত্রন নির্দেশ কম্পিউটারের বিভিন্ন অংশে প্রবেশ করে। কম্পিউটারের ভিতর নির্দেশ নিয়ন্ত্রনকারী বাস হচ্ছে কন্ট্রোল বাস। এটি উভয়মুখী বাস। এর সাহায্যে সিপিইউ যে অ্যাড্রেস রয়েছে সেখানে পড়া, লেখা বা ইনপুট- আউটপুট নির্দেশ প্রেরণ করা যায়।

এক্সপানশন বাস

যে বাস দ্বারা সিপিইউ কম্পিউটারের ইনপুট/আউটপুট ও অন্যান্য পেরিফেরাল ডিভাইসের সাথে সংযোগ স্থাপন করে, তাকে এক্সপানশন বাস বলে। এক্সপানশন বাস আবার নিম্মোক্ত কয়েক প্রকারে বিভক্ত। যেমন,


১. লোকাল বাস (Local Bus): বাইরের কিছু বোর্ডকে সিপিইউ এর সাথে সরাসরি সংযোগ করার জন্য নতুন ধরনের যে বাস সংযুক্ত করা হয়, তাকে লোকাল বাস বলে। 

২. ইউএসবি (USB): এ প্রযুক্তির সাহায্যে সংযোগ দেয়া I/O যন্ত্রগুলো প্রতি সেকেন্ডে ১২
মেগাবাইট গতিতে ডেটা পারাপার করতে পারে। পিসি এবং মেকিন্টোস উভয় প্লাটফরমেই এ
ইন্টারফেসটি জনপ্রিয়। এ ইন্টারফেসের বড় সুবিধা হলো যে এতে ডেটা ট্রান্সফারের গতি যখন তখন উঠা-নামা করে না।

৩. ফায়ারওয়্যার (Firewire): এটি অন্যতম দ্রুতগতির বাস। এ বাসের নাম IEEE 1394। এতে প্রতি সেকেন্ডে ১০০, ২০০ বা ৪০০ মেগাবাইট ডাটা স্থানান্তর সম্ভব।

8. এজিপি (Accelerated graphics port): মাদারবোর্ডে এজিপি কার্ড স্থাপনের জন্য
একটি মাত্র এজিপি স্লট থাকে। ভিডিও, গেমস, গ্রাফিক্স ইত্যাদি প্রদর্শনের জন্য এই বাস
ব্যবহার হয়।


৫. আইএসএ: এটি ধীরগতি সম্পন্ন বাস। ১৯৮১ সালে আইবিএম ইন্টেলের ৮০৮৮ প্রসেসরের আইএসএ ৮ বিট বাস ব্যবহৃত হয়ে আসছে। পরবর্তীতে ১৯৮৪ সালে ৮ বিট আইএসএ বাসকে উন্নত করে ১৬ বিট বাসে রূপান্তর করে।

কম্পিউটার বাসের কার্যাবলী

নিচে কম্পিউটার বাসের কার্যাবলী দেওয়া হল।

ডেটা ভাগ করে নেওয়া: - বাসগুলো সিরিয়াল বা সমান্তরাল স্থানান্তর পদ্ধতিতে ডেটা স্থানান্তর বা প্রেরণ করে। এটি একবারে ১, ২, ৪ বা এমনকি ৮ বাইট ডেটা আদান-প্রদান করতে দেয়। বাসগুলো একসাথে কতগুলো বিট চলতে পারে তার ভিত্তিতে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়, যার অর্থ আমাদের ৪-বিট, ১৬-বিট, ৩২-বিট, এমনকি ৬৪-বিট বাস রয়েছে।

অ্যাড্রেসিং: - বাসের এড্রেস লাইন রয়েছে যা প্রসেসরের জন্য উপযুক্ত। এটি আমাদের মেমরির বিভিন্ন স্থান থেকে ডেটা স্থানান্তর করতে দেয়।

শক্তি: - একটি বাস বিভিন্ন সংযুক্ত পেরিফেরালগুলোতে শক্তি সরবরাহ করে।

Do not enter any harmful link

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Do not enter any harmful link

Post a Comment (0)

নবীনতর পূর্বতন